শিরোনাম

আন্তর্জাতিক

মিয়ানমারের ছোড়া মর্টার শেল পড়লো বাংলাদেশে

নিজস্ব প্রতিবেদক: মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেল বাংলাদেশের নাইক্ষ্যংছড়ি লোকালয়ে পড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক কাটছে না। যে কোনো মুহূর্তে ফের গোলাগুলির আশঙ্কা করছেন তারা। মঙ্গলবার রাতেও অবিস্ফোরিত মর্টার শেল এসে পড়ে।

এ অবস্থায় আজ বুধবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে নাইক্ষ্যংছড়ি ভাজাবনিয়া সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বান্দরবান জেলা প্রশাসক শাহ মুজাহিদ উদ্দিন।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সরকারি জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে থেমে থেমে সংঘাত চলমান। এ সংঘাতে বিভিন্ন সময় নিক্ষিপ্ত গোলা তাদের সীমানা পেরিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তবর্তী লোকালয়ে এসে পড়ছে।

এতে নিত্যদিনের কাজে ও শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠাতেও ভয় পাচ্ছেন অভিভাবকরা। সোমবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে কোনার পাড়া এলাকায় বিস্ফোরিত মর্টার শেলের খোসা পাওয়া যায়।

মঙ্গলবারও দিনগত রাতে ঘোনারপাড়া এলাকায় মিয়ানমার থেকে নিক্ষিপ্ত অবিস্ফোরিত মর্টার শেল এসে পড়ে। এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে এ পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ভাজাবনিয়া সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নূরজাহান বেগম বলেন, সীমান্তের ওপারের গোলাগুলিরও ভারী গোলার শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। কোনো সময় আবার গোলাগুলি শুরু হয় তা বলা মুশকিল। এ পরিস্থিতিতে ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে খুবই ভয় লাগে।

তুমব্রু ঘোনারপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবু সিদ্দিক বলেন, মধ্যরাতে গোলাগুলি শুরু হলে ভয়ে কাঁচাঘরের বাসিন্দারা পাড়ার বা কাছাকাছি পাকা দালানে গিয়ে আশ্রয় নেন। গতকাল রাতে যখন আবারও গোলাগুলি শুরু হয় তখন সীমান্ত সড়কের ওপারে আশ্রয় নিয়েছিলাম।

আরও পড়ুন:

সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনকালে বান্দরবান জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক রয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে বিপজ্জনক এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হবে। এসময় স্থানীয়দের আতঙ্কিত না হয়ে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

google-news-channel-newsasia24

Follow

পাকিস্তানে পিটিআই মিছিলে বোমা বিস্ফোরণ, নিহত ৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) মিছিলে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫ জন।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) জানিয়েছে, তাদের জাতীয় পরিষদের প্রার্থী সাদ্দাম তারিনের একটি নির্বাচনী সমাবেশে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তাদের তিন কর্মী নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন।

এদিকে সাইফার মামলায় পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশির ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) দেশটির সরকারি গোপনীয়তা আইনের অধীনে একটি বিশেষ আদালত এ রায় দেন।

আরও পড়ুন:

পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। তার প্রায় এক সপ্তাহ আগে ইমরানের বিরুদ্ধে এই রায় দিলো পাকিস্তানি আদালত। ব্যাপক চাপের মধ্যেও নির্বাচনী আইকনিক ব্যাট প্রতীক ছাড়াই এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।

google-news-channel-newsasia24

Follow

রাশিয়ায় ৬৫ বন্দি নিয়ে প্লেন বিধ্বস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেনের ৬৫ বন্দি নিয়ে রাশিয়ার প্লেন বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের সঙ্গে বিনিময়ের লক্ষ্যে তাদের সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

আজ বুধবার (২৪ জানুয়ারি) রুশ বার্তা সংস্থা আরআইএ-নভোস্তি জানিয়েছে, রুশ সামরিক বাহিনীর একটি আইএল-৭৬ পরিবহন প্লেন পশ্চিম বেলগোরোদ অঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়েছে।

প্লেনটিতে আরোহী হিসেবে ৬৫ জন ইউক্রেনীয় যুদ্ধবন্দি, ছয়জন ক্রু এবং তিনজন এসকর্ট ছিলেন। প্লেন বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ অনুসন্ধানে রাশিয়ার মিলিটারি স্পেস ফোর্স ঘটনাস্থলে গেছে।

আরআইএ নভোস্তির খবরে আরও বলা হয়েছে, বুধবার বেলগোরোদের কাছাকাছি ব্লিঝনো গ্রামে একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন দেখা গিয়েছিল। এছাড়া, ওই অঞ্চলের গভর্নর ব্যাচেস্লাভ গ্ল্যাডকভ তার টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা জারি করেন।

আরও পড়ুন:

পরে কোরোচানস্কি জেলায় গুরুতর জরুরি অবস্থার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে এসব বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলটি ইউক্রেনের সঙ্গে সীমান্তবর্তী। ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনী এই অঞ্চলে নিয়মিত গুলিবর্ষণ করে থাকে। এর জেরে সেখানে ‘সন্ত্রাসী হামলার’ উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে বলে উল্লেখ করে থাকে রাশিয়া।

google-news-channel-newsasia24

Follow

আফগানিস্তানে বিধ্বস্ত হওয়া উড়োজাহাজের ৪ জন জীবিত উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানে বিধ্বস্ত হওয়া উড়োজাহাজের পাইলটসহ চার যাত্রীকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।এ তথ্য রাশিয়ার উড়োজাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানান, উড়োজাহাজে থাকা বাকি দুজন যাত্রী নিহত হয়েছেন।

তালেবানের প্রাদেশিক সরকারের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জীবিত ব্যক্তিদের মধ্যে প্লেনের পাইলট রয়েছেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার চারজন বর্তমানে তালেবান প্রশাসনের হেফাজতে রয়েছেন।

আরও পড়ুন:

রাশিয়ার বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, উড়োজাহাজটি চার্টার্ড অ্যাম্বুলেন্সের ফ্লাইট ছিল। ফ্লাইটটি ভারত থেকে উজবেকিস্তান হয়ে মস্কোর দিকে যাচ্ছিল। এ সময় আফগানিস্তানের সীমানার ভেতরে এসে সিগন্যাল হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে বিমানটি।

google-news-channel-newsasia24

Follow

বাড়িওয়ালির স্বামীকে নিয়ে পালালেন ভাড়াটিয়া তরুণী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গ্রাম  থেকে শহরে চাকরির পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন এক তরুণী। এ সময় তার সঙ্গে আলাপ হয় এক নারী কনস্টেবলের। মেয়েটি নিজের গ্রামের জেনে তাকে বাড়িতে থাকতে দেন তিনি। চাকরি পাবার পর কনস্টেবলের স্বামীর সঙ্গেই পালিয়ে গেলেন সেই তরুণী।

ঘটনাটি ঘটে বিহারের পাটনা শহরে। ওই তরুণী বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশন পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষিকার চাকরি পেয়েছেন। তার এই কীর্তির খবর প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গেছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন বাড়িওয়ালি নারী।

জানা গেছে, পাটনার দারভাঙায় দুই বছরের মেয়ে এবং স্বামীকে নিয়ে সুখের সংসার ছিল বাড়িওয়ালির। কিছুদিন আগে উত্তরপ্রদেশে থেকে আসা একটি মেয়েকে বাড়ি ভাড়া দেন তিনি।

আরও পড়ুন:

তাদের বাড়িতে থেকেই চাকরি পান তরুণী। এরপর সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল। তবে মাসখানেক পর আচমকাই গায়েব হয়ে যান তরুণী। একইদিন থেকে নিখোঁজ ছিলেন বাড়িওয়ালির স্বামীও। এ সময় দুজনের ফোনও বন্ধ ছিল।

বাড়িওয়ালির অভিযোগ, অনেক খুঁজেও স্বামী এবং তরুণীর সন্ধান পাননি। একপর্যায়ে স্বামীর সঙ্গে ফোনে কথা হয় তার। এ সময় তিনি স্ত্রীকে ডিভোর্সের কথা বলেন। এরপর আর বুঝতে বাকি থাকে না তার স্বামীই তরুণীকে নিয়ে পালিয়েছেন। এরপরই দুই বছরের শিশুকে নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন বাড়িওয়ালি।

google-news-channel-newsasia24

Follow

যুক্তরাষ্ট্রে ডাকাতির ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করত শেখ আবির হোসেন (৩৪) নামের এক শিক্ষার্থী। তিনি টেক্সাসের বিউমন্টে একটি দোকানে ডাকাতির ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন।

গত শুক্রবার টেক্সাসের ক্রিস ফুড মার্টে তিনি নিহত হন। সেখানে তিনি স্টোর ক্লার্ক হিসেবে কাজ করতেন। দোকান থেকে সিগারেট নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় দুই সন্দেহভাজন তাকে গুলি করে।

A-Bangladeshi-student-was-shot-dead-in-a-robbery-incident-in-the-United-States-newsasia24

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে যান। তিনি লামার ইউনিভার্সিটিতে গবেষণা সহকারী ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের চ্যানেল কেএফডিএম জানায়, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আবিরকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়।

আরও পড়ুন:

আবিরের বড় ভাই জাহিদুল ইসলাম শনিবার সন্ধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে জানান, নিউইয়র্কে বসবাসরত এক পরিবারের সদস্য তার ভাইয়ের মৃত্যুর খবর তাকে জানান।

বিউমন্ট পুলিশ এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরে সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

google-news-channel-newsasia24

Follow

আবুধাবির সর্ব প্রথম মন্দির উদ্বোধন করবেন ভারতের মোদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আবু ধাবির সর্ব প্রথম মন্দির তৈরি করা হয়েছে। সেই মন্দিরের উদ্বোধন করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সংযুক্ত আরব আমিরাত মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী আবু ধাবি যাওয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।

আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি সরস্বতী পুজা। হিন্দু ধর্মের পবিত্র দিনটিকেই বেছে নেওয়া হয়েছে মন্দির উদ্বোধনের জন্য। সেদিন সকালে হবে মূর্তি প্রতিষ্ঠা। এর পর সন্ধ্যায় হবে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান। সেখানে উপস্থিত থাকবেন মোদি।

India's-Modi-will-inaugurate-the-first-temple-in-Abu-Dhabi-newsasia24

এর আগে, আবু ধাবিতে মন্দিরটির ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করেছিলেন মোদি। এবার তিনিই সেই মন্দিরের উদ্বোধনও করবেন।

আরও পড়ুন: 

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে শুরু হয় মন্দির নির্মাণের কাজ। মোট ৫৫ হাজার বর্গমিটার জমিতে তৈরি হয়েছে মন্দিরটি। এটিই সংযুক্ত আরব আমিরাতে নির্মিত প্রথম হিন্দু মন্দির। ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মন্দিরটি সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

google-news-channel-newsasia24

হামাস ও ইসরায়েলের যুদ্ধ পৌঁছেছে লোহিত সাগরে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধের ঢেউ গিয়ে পৌঁছেছে লোহিত সাগরে। গাজায় বোমা হামলা শুরুর পরপরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে লোহিত সাগরে। কারণ বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজা লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীটিকে সমর্থন দিচ্ছে ইরান।

ফিলিস্তিনিদের পক্ষে সমর্থন জানাতেই সেখানে হামলা শুরুর ঘোষণা দেয় হুথি। তাদের দাবি, গাজায় যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে দিতে হবে।

The-war-between-Hamas-and-Israel-has-reached-the-Red-Sea-newsasi24

ইসরায়েলগামী জাহাজে হামলার ঘোষণা দেওয়া হয়। ১৯ নভেম্বর ইসরায়েলের মালিকানাধীন একটি জাহাজে হামলা চালায় হুথি বিদ্রোহীরা। এরপর ১২ ডিসেম্বর ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত একটি এলাকা থেকে একটি নরোয়েজিয়ান ট্যাঙ্কারে হামলা চালানো হয়। যদিও এর মালিকরা জানিয়েছেন জাহাজটি ইসরায়েলগামী ছিল না। লক্ষ্য বস্তুতে পরিণত করা হয়েছে ফ্রান্সের যুদ্ধ জাহাজকেও।

আরও পড়ুুুুুুুুুুন>>কে এই ‌‌’খালিদা জারার’?

এরপর একে একে বেশ কিছু জাহাজে হামলা চালানো হয়। এতে লোহিত সাগর কার্যত অচল হয়ে পড়ে। তবে এই সংকট দূর করার জন্য কয়েকটি দেশের সমন্বয়ে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু অঞ্চলটিতে উত্তেজনা কোনোভাবেই থামছে না।

এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনেই কৌতূহল জেগেছে কারা এই হুথি। কেনইবা তারা লোহিত সাগরের বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।

হুথি মুভমেন্ট প্রথম শুরু হয়েছে উত্তর ইয়েমেন থেকে। সেখানের অধিকাংশ মানুষই জায়েদিজম অনুসরণ করেন, যা শিয়া মুসলিমদের একটি শাখা। কয়েক শতাব্দী ধরে জায়েদি ইমামরা ওই অঞ্চলে নিজেদের আদর্শ বাস্তবায়নের চেষ্টা চালায়। ১৯১৮ সালে তারা এক সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে।

আরও পড়ুন>>খালিদ জারার গ্রেফতার; ইসরায়েলে আরও অফিসার ও সৈন্যকে হত্যা

এই ইমামরা ১৯৬২ সাল পর্যন্ত শাসন ক্ষমতায় ছিলেন। সেসময় একটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইয়েমেন আরব রিপাবলিক প্রতিষ্ঠা হয়। পরে সুন্নি অধ্যুষিত এলাকার চেয়ে জায়েদি এলাকা তুলনামূলকভাবে গরিব হয়ে পড়ে। ১৯৮০ সালের দিকে সৌদি ও ইয়েমেনের সরকার উত্তরাঞ্চলে সুন্নি মতবাদকে প্রোমট করে। এমন পরিস্থিতিতে জোয়েদি মুভমেন্টের আবির্ভাব হয়।

১৯৯০ দশকের দিকে জায়েদি ধর্মগুরু হুসেন আল-হুথি সৌদি সমর্থিত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। যদিও এটি ২০০১ সালের দিকে বিভক্ত হয়ে যায়। কিন্তু তার অনুসারীরাই হুথি নামে পরিচিত হয়।

আরও পড়ুন>>জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করায় মালয়েশিয়ায় ১৭১ বাংলাদেশি আটক

ধীরে ধীরে হুথিদের বিরুদ্ধে সমর্থন বাড়তে থাকে, যা হুমকি হয়ে দাঁড়াতে শুরু করে ইয়েমেনের সরকারের জন্য। ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন হামলারও সমর্থন করেছিল ইয়েমেনের নেতারা, যা ভালোভাবে নেয়নি ইরাকের জনগণ। তাদের এই ক্ষোভকে পুঁজি করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ডাক দেয় হুথি। আল-হুথি ইরানের ইসলামিক বিপ্লব ও লেবনানের হিজবুল্লাহ মুভমেন্টকে মডেল হিসেবে গ্রহণ করেন। গোষ্ঠীটির মূল স্লোগান ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে নির্মূল।

ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে হুথি বিদ্রোহীদের প্রভাব বাড়তে থাকায় দেশটির সরকার দমনপীড়ন শুরু করে। ২০০৪ সালে সরকারি বাহিনী গোষ্ঠীটির প্রতিষ্ঠাতা হুসেন আল-হুথিকে হত্যা করে। হুথি বিদ্রোহীদের অস্ত্রের মূল উৎস কালোবাজার ও কিছু সামরিক বাহিনী।

২০১১ সালে আরব বসন্তের সময় হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক শাখা উত্তর ইয়েমেনের সাদা প্রদেশ দখল করে। নাম দেওয়া হয় আনসার আল্লাহ বা আল্লাহর রক্ষক।

আরও পড়ুুুুুুুন>>সিরিয়ায় বিমান হামলায় সিনিয়র উপদেষ্টা সাইদ রাজি মৌসাভি নিহত

এরপর ২০১৪ সালে ইরানের সহায়তায় রাজধানী সানা দখলে নেয় হুথি বিদ্রোহীরা, মূলত তারা পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদ রাব্বো মনসুর হাদী সৌদি আরবে পলিয়ে যান। ২০১৫ সালে তার অনুরোধে ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে সৌদি আরব। কয়েক বছরে ২৫ হাজারের বেশি হামলা চালানো হয়। নিহত হয় ১৯ হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক।

২০২২ সালের এপ্রিলে দেশটিতে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। তারপর থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। যদিও চলতি বছরের শুরুর দিকে জাতিসংঘ জানায়, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানবিক সংকটের মুখোমুখি ইয়েমেন। তবে রাজধানী দখলে নেওয়ার পর থেকেই ইয়েমেনের বেশ কিছু অঞ্চল দখলে নেয় তারা।

আরও পড়ুন>>বড়দিন পালনে সতর্ক করেছেন নেদারল্যান্ডসের স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হুথি যোদ্ধারে মূল লক্ষ্য ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যু। কিন্তু ইয়েমেনের বাইরে হামলা করার মতো তাদের তেমন কোনো সক্ষমতা নেই। তবে সম্প্রতি তারা ইসরায়েলে হামলা চালানোর মতো ক্ষেপণাস্ত্র হাতে পেয়েছে।

এই পরিসরের ক্ষেপণাস্ত্র খুব একটা উদ্বেগের না হলেও লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার বিষয়টি মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের সহায়তা হুথিদেরকে একটি রাগট্যাগ সেনাবাহিনী থেকে একটি বাহিনীতে রূপান্তরিত করেছে। হুথিদের অত্যাধুনিক অস্ত্র সরবরাহ করেছে ইরান।

বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় বেড়ে যেতে পারে পরিবহন খরচ। কারণ জাহাজগুলোকে আফ্রিকা ঘুরে ইউরোপে যেতে হবে। এতে দেশে দেশে মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব পড়তে পারে।

google-news-channel-newsasia24

Follow

কে এই ‌‌’খালিদা জারার’?

নিউজ এশিয়া২৪ ডেস্ক: ২৬ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) পশ্চিম তীরের রামাল্লায় খালিদা জারার বাড়ি থেকে তাকে আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী। তারা তাকে আটক করার আগে জারারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তল্লাশি চালায়।

জারার, ফিলিস্তিনের মুক্তির জন্য জনপ্রিয় একজন বিশিষ্ট নেতা। ইসরায়েলিদের কাছে সংখ্যবার গ্রেফতার হন এবং কয়েক বছর কারাগারে কাটিয়েছিলেন।

খালিদা জারার এর পরিচয়: 

Khalid-Zara-arrested;-Killing-more-officers-and-soldiers-in-Israel-newsasia24 2
আইকনিক ফিলিস্তিনি নেতা- খালিদা জারার

৯ ফেব্রুয়ারী ১৯৬৩ সালে উত্তর পশ্চিম তীরের নাবলুস শহরে জন্মগ্রহণ করেন খালিদা জারার। তিনি বিরজাইট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

জারার, ১৯৯৪ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত অ্যাডামিয়ার প্রিজনারস সাপোর্ট অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ফিলিস্তিনি আইন পরিষদে (পিএলসি)- ফিলিস্তিনি সংসদে নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ফলোআপের জন্য ফিলিস্তিনি জাতীয় কমিটি এবং “পি.এলসি” এর বন্দী কমিশনের প্রধান।

আরও পড়ুন: 

আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছে ইসরায়েলি যুদ্ধাপরাধ প্রকাশের জন্য একজন ফিলিস্তিনি নেতা হিসাবে খালিদা জারারকে ঘন ঘন গ্রেফ্তার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে, ৮ই মার্চের সমাবেশে অংশ নেওয়ায় এক মাস কারাগারে ছিলেন।

google-news-channel-newsasia24

খালিদ জারার গ্রেফতার; ইসরায়েলে আরও অফিসার ও সৈন্যকে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিস্তিনি নেতা খালিদ জারারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপরদিকে, গাজায় আরও কয়েকজন অফিসার ও সৈন্যকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

‘‘প্যালেস্টাইন ক্রনিকল’’ এর খবরে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

Khalid-Zara-arrested;-Killing-more-officers-and-soldiers-in-Israel-newsasia24 2
আইকনিক ফিলিস্তিনি নেতা- খালিদা জারার

খবরে বলা হয়, খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে বোমা হামলা চলোনো হয়েছে এবং হাসপতালের আশেপাশের এলাকায় ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর লক্ষ্য করে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন>> কে এই ‌‌’খালিদা জারার’?

খবরে আরও বলা হয়, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদার সৈন্যরা ফিলিস্তিনি নেতা ও কর্মী, খালিদা জারারকে রামাল্লায় তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে।

আরও পড়ুন: 

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের চলমান গণহত্যায় ২০,৬৭৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫৪,৫৩৬ জন। নিহত ও আহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

google-news-channel-newsasia24